নিঃশ্বাস এবং মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে চিন্তিত?এই সমস্যা আপনার একার নয়। এটি আমাদের সামাজিক জীবনের জন্য একটি বাঁধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে। এই সমস্যার জন্য হয়ত খুব অল্পতেই আপনি লজ্জিত অথবা অপ্রস্তুত হতে পারেন। কিন্তু খুব সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই আপনি পেতে পারেন সজীব এবং সতেজ নিঃশ্বাস।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়
(১) নিয়মিত দাঁত মাজুন এবং ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন
মুখের দুর্গন্ধ এর জন্য প্রধান একটি কারণ হল প্লাক – এক ধরনের আবরন যা দাঁতের উপর লেগে থাকে এবং এর উপর ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। দাঁতের ফাকে আঁটকে থাকা খাবারের কণা এই সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেয়। যদি আপনি আপনার মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হন তাহলে নিয়মিত ‘দাঁত’(Teeth) মাজুন এবং ফ্লস ব্যবহার করুন। কিন্তু কখনই প্রয়োজনের অতিরিক্ত করবেন না। খুব জোর দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। ফলে আপনার দাঁত ক্ষয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
(২) জিহবা পরিষ্কার রাখুন
স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের জিহবার উপরে এক ধরনের আবরন তৈরী হয়। এই আবরন দুর্গন্ধ্ যুক্ত ব্যাকটেরিয়া তৈরী করে। আপনার টুথব্রাশের সাহায্যে এই আবরন পরিষ্কার করে নিতে পারেন। অনেকের কাছেই টুথব্রাশের সাহায্যে জিহবার একদম পেছন পর্যন্ত পরিষ্কার করাটা কঠিন মনে হতে পারে যেহেতু জিহবার তুলনায় টুথব্রাশ গুলো বড় হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি tongue scraper ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন সঠিক ভাবে মুখগহ্বরের যত্নের জন্য Tongue scraper এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। জিহবার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া, খাবারের কণা আর মৃত কোষ গুলো কে দূর করার জন্য এটি বিশেষ ভাবে তৈরী এবং টুথব্রাশের চাইতে অনেক বেশি কার্যকরী।
(৩) মুখে দুর্গন্ধ্ তৈরী করে এমন খাদ্য পরিহার করুন
পেঁয়াজ এবং রসুন খাওয়ার ফলে মুখে দুর্গন্ধ্ তৈরী হয়। বিশেষজ্ঞ দের মতে পেঁয়াজ অথবা রসুন খাওয়ার পরে শুধু দাঁত মাজলেই মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়না। কারণ এগুলোর কিছু উপাদান রক্তের সাথে মিশে আমাদের ফুসফুস পর্যন্ত যায় ফলে নিঃশ্বাসের সাথে ‘দুর্গন্ধ’(Bad smell) বের হয়ে আসে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় হল পেঁয়াজ এবং রসুন না খাওয়া, বিশেষ করে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে অথবা কাজে যাবার আগে তো একেবারেই নয়।
(৪) ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করুন
ধূমপান মুখের দুর্গন্ধ তৈরী হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ধূমপানের ফলে মাড়ির tissue ক্ষতিগ্রস্থ হয় আর দাঁতের উপর দাগ তৈরী হয়। এই অভ্যাস মুখের ক্যান্সার হবার ঝুকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান করা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চাইলে আপনি চিকিত্সকের সাহায্য নিতে পারেন। দেহে নিকটিনের চাহিদা কমিয়ে আনবে এরকম ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।
(৫) মুখগহ্ববর পরিষ্কার করা
আপনার নিঃশ্বাসের সতেজতা ধরে রাখার জন্য এ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। কোন কিছু খাওয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে কুলি করে ফেলুন। তাহলে দাঁত এবং মুখে লেগে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
(৬) রাতের খাবার শেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন না
ক্যান্ডি, চিউইং গাম এবং যে কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার মুখের ভেতর দুর্গন্ধযুক্ত ব্যাক্টেরিয়া প্রস্তুত এবং বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে চিনিমুক্ত চিউইং গাম খেতে পারেন।
(৭) দাঁতের মাড়ির যত্ন নিন
ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ হয় যা periodontal disease নামে পরিচিত। এর কারণে মুখে দুর্গন্ধ তৈরী হয়। তাই সবসময় মাড়ির যত্ন নিন এবং পরিষ্কার রাখুন।
(৮) মুখগহ্ববর যেন শুষ্ক না থাকে
যদি আপনার মুখের ভেতর শুকিয়ে যায় তাহলে প্রচুর পানি পান করুন। চিনিমুক্ত চিউইং গাম খান অথবা চিনিমুক্ত ক্যান্ডি চুষে খাবেন। এর ফলে আপনার মুখের ভেতরের অংশ শুষ্ক হবেনা।
নিয়ম মেনে চলার পরেও যদি মুখের দুর্গন্ধ দূর না হয় চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। কারণ অনেক সময় সাইনাস ইনফেকশান, ফুসফুসের ইনফেকশান, লিভার ও কিডনীর সমস্যার কারনেও মুখে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ তৈরী হয়।