কার্লি ফ্যাশানের যুগ চললেও এখনও অনেকেই স্ট্রেইট চুলের ভক্ত আছেন যারা তারা এখনও রিবন্ডিং করার জন্য পার্লারে ছুটে যাচ্ছেন বা স্ত্রেইটনার দিয়ে চুল সোজা করছেন। এক ঘেয়েমি কোঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো স্টাইল হয়ত আপনার লুকটাকে বোরিং করে তুলছে, তাই কয়েক ধরনের ‘রিবন্ডিং’(Ribbing) এর সাথে আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো। প্রথম যখন রিবন্ডিং এর চল উঠেছিল তখন শুধু এক রকমেরই ছিল, সে আপনার চুল যেমনই হোক আপনাকে সেই রকম রিবন্ডিংই করতে হত। এখন সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুচি আর প্রয়োজন অনুযায়ী রিবন্ডিং এর রকমভেদ আছে। যেমন ধরুন আপনার চুল কম সেক্ষেত্রে আগের ঐ স্টিফ, ফ্ল্যাট রিবন্ডিং করলে আপনার চুল আরও কম দেখাত, তাই আপনার জন্য এখন আছে ভলিউম রিবন্ডিং। এখন এমন আরও কয়েক ধরনের রিবন্ডিং এর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব।
চুল এর সাজে রিবন্ডিং
সেমি হেয়ার রিবন্ডিং
এটি আপনার চুলকে সোজা করবে সঙ্গে অনেক বেশি ন্যাচারাল ও দেখাবে। অন্যান্য রিবন্ডিং থেকে এটি করতে সময় কম লাগে তাই খরচটাও কম। যদি আপনার Hair সোজা চুলের পর্যায়ে ফেলা যায়, আপনি যদি চান শুধু মাত্র আপনার স্ত্রেইট Hair সব সময় সিল্কি থাকবে বা স্ত্রেইট চুলেও কিছু ছোট ছোট ওয়েভ থাকে সেটি না থাকুক তাহলে নিশ্চিন্তে এই রিবন্ডিং করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ড্রাই, অয়েলি চুলের কোন ভেদাভেদ নেই। যেকোনো চুলেই করতে পারবেন। যাদের চুল পরিমাণে কম কিন্তু বেশ ফোলাফলা তাদের Hair গুলো দেখতে কেমন যেন অগোছালো লাগে, তাদের জন্য সেমি হেয়ার রিবন্ডিং একদম পারফেক্ট।
মিল্ক রিবন্ডিং
যাদের চুল কালার করা তারা এই রিবন্ডিং করতে পারেন। কারণ এই রিবন্ডিং এর ফর্মুলাতে ৭০% মিল্ক ব্যবহার করা হয় বাকিটা চুল এবং মাথার স্কাল্প ফ্রেন্ডলি এডিটিভস থাকে। মিল্কের সাথেও মেশানো হয় এ, বি, ডি এবং ই সলিউশন। যা আপনার কেমিকেল ট্রিটেড চুলের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। এই রিবন্ডিং করার পর সব মেয়ে যে সিল্কি Hair পাবে এটার গ্যারান্টি দেয়া মুশকিল কিন্তু এটা সত্য যে চুলে প্রোটিনের পুষ্টি জুগিয়ে চুলের কিউটিকেলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলে আর Hair হয়ে ওঠে নরম, কোমল। আপনি যদি কম চুলের অধিকারী হন অথবা ড্যামেজ চুল থাকে তাহলে এটি করতে পারেন। আমার শুষ্ক চুলের পাঠিকাদের জন্য একদম পারফেক্ট।
ভলিউম রিবন্ডিং
আপনার চুলে ভলিউম আনাই এর প্রধান লক্ষ্য। কোরিয়ানদের এই রিবন্ডিং করার প্রবণতা বেশি। অনেকে বলতে পারেন কোরিয়ানদের Hair তো এমনিতেই অনেক বেশি সুন্দর তাদের আবার রিবন্ডিং করা লাগে নাকি। কে জানে তাদের এই সুন্দর চুলের রহস্য হয়ত ভলিউম রিবন্ডিং। এটি এতো বেশি ন্যাচারাল লুক দেয় যে রিয়েল আর ফেক এর ভিতর তফাৎ করাই মুশকিল। বাইরের দেশে এই রিবন্ডিং এ, চুলের নীচের অংশটুকু একেবারে সোজা না করে হালকা U শেপ দেয়া হয়, Hair ন্যাচারালি ঘন দেখানোর জন্য। কিন্তু আমাদের দেশের পার্লার গুলোতে হয়ত এটা মেইনটেন করা হয় না। কার্লার, স্ট্রেইটনার সহ আরও কিছু সামগ্রী ব্যবহার করা হয় ভলিউম রিবন্ডিং এ। তাছাড়া এমন কেমিকেল ব্যবহার করা হয় যেগুলোতে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান থাকে। ফলে স্টিফ, রাফ চুলকে বলুন বাই বাই।
গ্লেজি রিবন্ডিং
আপনার চুল অনেক ঘন কিন্তু প্রাণহীন- তাহলে এই রিবন্ডিং আপনার জন্য। কারণ এটি আপনার চুলকে কিছুটা চেপে দেয় ফলে বেশি চুল হলে খারাপ দেখায় না। কিন্তু আপনার একে তো কম Hair তার উপর রিবন্ডিং এর বৈশিষ্ট অনুযায়ী চুল চেপে গেলে সুন্দরের বদলে পাতলা ফিনফিনে দেখাবে। বিভিন্ন কেমিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার চুলে চকচকে ভাব এনে দেয় মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। এই রিবন্ডিং করার ৩দিনের মধ্যে চুলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করা জরুরী। কেননা কেমিকেল, হিট ব্যবহার করার পর চুল কিছুটা দুর্বল হয়ে ওঠে।
রিবন্ডিং এর পর কীভাবে চুলের যত্ন নিবেন?
০১. প্রত্যেক বার শ্যাম্পু করার সময় রিবন্ডিং চুলের জন্য বিশেষ ফর্মুলাতে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।
০২. সপ্তাহে অন্তত পক্ষে একবার হেয়ার মাস্ক বা হেয়ার সেরাম ব্যবহার করবেন।
০৩. ‘শ্যাম্পু’(Shampoo) শেষে চুলে কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না কিন্তু।
০৪. মিল্ক রিবন্ডিং ছাড়া অন্যান্য যেকোনো রিবন্ডিং করার ৩দিনের মধ্যে চুলে প্রোটিন ট্রিটমেণ্ট করাবেন।
০৫. যেকোনো রিবন্ডিং করার পর চুলে নিয়মিত প্রোটিন ট্রিটমেণ্ট করাবেন। তাহলে কেমিকেল জনিত কারণে চুল পড়ার প্রবণতা কমে যাবে অনেক খানি।