
শরীর পরিষ্কার রাখা ও সু-স্বাস্থ্যের জন্য শুধু পানি দিয়ে ধুলেই ত্বক পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। সাবান দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে ত্বকের ময়লা, ধূলা ও তৈলাক্ত ভাব দূর হয়। কিন্তু বিভিন্ন রকমের সাবান রয়েছে। আর এমন সাবান দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে, যা ত্বককে শুষ্ক করবে না এবং ত্বকের স্বাভাবিক মসৃণতা বজায় থাকবে।
➥ ময়েশ্চারাইজিং :
এ ধরনের সাবানগুলো ত্বককে আর্দ্র করে। শুষ্ক ত্বকের জন্য বিশেষ করে এ ধরনের সাবানগুলো প্রয়োজন। এ ধরনের সাবানে তেলের পরিমাণ বেশি থাকে। যেমন- ক্রিম, কোকো বাটার, নিউট্রাল ফ্যাট, ল্যানোলিন ইত্যাদি থাকে। সাবানের ক্ষারীয় ভাবের জন্য ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয় তাই
ময়েশ্চারাইজিং সাবানে ক্ষার কম থাকে এবং নিউট্রাল হয় এ ধরনের সাবানগুলো।
➥ স্বচ্ছ :
গ্লিসারিনযুক্ত সাবানগুলো স্বচ্ছ হয়। সংবেদনশীল তৈলাক্ত ত্বকের জন্য গ্লিসারিনযুক্ত স্বচ্ছ সাবানগুলো খুব ভালো।
➥ ডিওডরেন্ট , গন্ধহারী বা গন্ধনাশক :
এ ধরনের সাবানে ব্যাকটেরিয়ানাশক উপাদান থাকে। এর ফলে এ সাবানগুলো শরীরের গন্ধ দূর করে। মুখের ত্বকে অবশ্য এ সাবানগুলো ব্যবহার করা যায় না। তবে ঘামের গন্ধ দূর করার জন্য ডিওডরেন্ট সাবান বেশ উপকারী।
➥ ভেষজ ঔষধিযুক্ত :
ত্বক বিশেষজ্ঞরা মেডিকেটেড সাবানগুলো ব্যবহার করতে উৎসাহী করেন না। তবে প্রয়োজনে মেডিকেটেড সাবানগুলো ব্যবহার করলেও তা দীর্ঘ দিনের জন্য ব্যবহার করবেন না। টানা দুই মাসের বেশি এ ধরনের সাবানগুলো ব্যবহার না করাই ভালো।
➥ তরল :
সাবানের আধুনিক সংস্করণ তরল সাবান বা বাম জেল। তরল সাবানগুলো ত্বকের উপযোগী করে তৈরি করা হয় এবং অন্যান্য সাবানের চেয়ে ভালো। এ ধরনের সাবানে ক্ষারীয় ভাব কম থাকে ও নিউট্রাল থাকে বলে ত্বককে শুষ্ক করে না। একজন ব্যক্তির দিনে দুইবার গোসল করার প্রয়োজন। আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী এটাই স্বাস্থ্যসম্মত। সকাল-সন্ধ্যায় গোসল করা ভালো। সন্ধ্যায় ঈষদুষ্ণ পানি ও সাবান ব্যবহার করে গোসল করতে হবে। আর সকালে গোসলের সময় শরীরের ভাঁজগুলোতে সাবান মেখে ধুয়ে নিলে ময়লা দূর হবে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সাবারে ধরণ বেছে নিতে হবে এবং ঋতু অনুযায়ী সাবানের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বয়সের সাথে সাথে ত্বকের পরিবর্তন হয় কিংবা গর্ভকালীন ত্বকের পরিবর্তনের কারণে সাবানের যথাযথ পরিবর্তনও প্রয়োজন।
ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ানাশক ও মেডিকেটেড সাবানসমূহ মুখে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আরেকটা কথা মনে রাখবেন, ত্বকে সাবান ব্যবহারের পর পানি দিয়ে ভালো করে ধোবেন। ত্বকে সাবানের অবশিষ্ট অংশ লেগে থাকলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
➥ লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ