বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার উপায়

বিষণ্ণতা
বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার উপায়

রহিমা বেগম কয়েক দিন ধরে দেখছেন যে, তার বড় মেয়ে মিমি কারো সাথে তেমন কথা বলছে না। যে চটপটে মেয়ে ও! খাওয়া দাওয়াও তেমন করছে না। মুখে কেমন যেন বিষণ্ণতা । তিনি বুঝে পান না, হঠাৎ কী হলো তার আদরের লক্ষ্মী মেয়েটির?
জীবনের যে কোন পর্যায়েই যে কেউ আমরা এরূপ ডিপ্রেশন বা হতাশায় ভুগতে পারি। চাহিদার সাথে যখন প্রাপ্তির মিল ঘটে না তখন তৈরী হয় হতাশা যা আমাদের স্বাভাবিক কাজ কর্মে বিঘ্ন ঘটায়। দীর্ঘদিন ধরে মনে চেপে বসা এই হতাশাই এক সময় রূপ নেয় ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন বা ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে।যা আপনার জীবন কে করে তুলবে অস্বাভাবিক ও যন্ত্রণাময়। তাই বিষণ্ণতা সরিয়ে রেখে কিভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায় তার কিছু অতি প্রয়োজনীয় টিপস জেনে নেয়া যাক।
• প্রত্যেক মানুষেরই কিছু পছন্দের কাজ রয়েছে। তাই বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে পছন্দমত কাজে নিজেকে ব্যস্ত রখুন।
• প্রতিদিনের ব্যস্ত রুটিনে কিছু বিনোদনের সময় রাখুন। সেটা বাড়িতে টেলিভিশন দেখা না হয়ে ঘরের বাইরে হলে ভালো হয়, সেটা হতে পারে মঞ্চ নাটক বা অন্য কিছু যা আপনার মনের খোরাক যোগাবে, দূর হবে বিষণ্ণতা ।
• প্রতিদিনের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করুন। এসময় নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিন সৃষ্টিকর্তার কাছে।দেখবেন অনেক হালকা বোধ করছেন।মহা ক্ষমতাধর কেউ একজন আপনার সাথে আছে এই বোধই আপনার বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে অনেক সাহায্য করবে।
• পরিবারের মানুষের জন্য সময় বের করুন।কারণ আপনার এত শ্রম তো তাদের জন্যই।তাদের সাথে কাটানো সময় আপনাকে আরো ভালো কাজ করতে প্রেরণা যোগাবে এবং কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে আপনার বিষণ্ণতা ।
• মনের মধ্যে কথা চেপে রাখবেন না।আপানার বিশ্বস্ত কাছের মানুষের কাছে সব খুলে বলুন এবং খেয়াল রাখুন এই খুলে বলাটা যেন আবার উল্টো চাপের সৃষ্টি না করে।
• প্রতিদিনের একই ধরেনের বাঁধা রুটিন হতে বেরিয়ে আসুন।নিজেকে রোবট করে ফেলবেন না।
• যার সঙ্গ আপনার ভালো লাগে তার সাথে কিছু ভালো সময় কাটাতে চেষ্টা করুন।দূরত্ব বেশি হলে ফোনেই হতে পারে যোগাযোগ।তবে অতিরিক্ত অবশ্যই নয়।
• বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে গেট-টুগেদার করতে পারেন।যেখানে জম্পেস আড্ডায় উড়িয়ে দিতে পারেন দুঃখ, কষ্ট ও বিষণ্ণতা ।
• প্রতিদিনের শারীরিক শ্রম বা ব্যায়াম আপনার হতাশা কাটাতে সাহায্য করবে। তাই যান্ত্রিক জীবন হতে বেরিয়ে এসে নিজের কিছু সময় দিন বাগান তৈরীতে বা কোন শারীরিক শ্রমের কাজে।
• যোগ ব্যায়াম আপনার মন কে শান্ত রাখতে সাহায্য করবে।কাজেই আজ থেকেই শুরু করে দিন না যোগ ব্যায়াম!
• সময় হাতে নিয়ে মাঝে মাঝে চলে যান প্রকৃতির কাছাকাছি এবং নিজেকে সবুজের অংশ মনে করুন। দেখবেন মন ফুরফুরে হয়ে গিয়েছে।
• সবসময় ইতি বাচক চিন্তা ভাবনা করুন এবং আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধি করুন।
• সবাইকে বন্ধুত্বের দৃষ্টিতে দেখতে চেষ্টা করুন। যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ হন।
• খাবার মেনুতে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার রাখুন। মন খারাপ হলে এক কাপ কফি বা চা আপনার মন চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে।তবে অবশ্যই অতিরিক্ত নয়।
জীবন যেহেতু আপনার একান্ত নিজের তাই একে ভালোবাসুন গভীর ভাবে।আপনার কোন অপ্রাপ্তির জন্য অবশ্যই নিজেকে দোষী করবেন না। দীর্ঘদিনের বিষণ্ণতা যদি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।মনে রাখবেন, বিষণ্ণতা কোন রোগ নয়। সব মানুষের জীবনেই এর উৎপাত রয়েছে।তবে দীর্ঘদিনের বিষণ্ণতা বড় বড় মনোরোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তাই একে অবহেলা করবেন না।

আপনার যে কোন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যের জানান দিতে আপনার ডক্টর রয়েছে আপনার পাশে।জীবনকে সুস্থ্য, সুন্দর ও সুখময় করার জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন আপনার ডক্টর health সাইটে।মনে না থাকলে আপনি সাইট আপনার ব্রাউজারে সেভ করে রাখুন।ধন্যবাদ
লিখেছেনঃ সাইফুল্লাহ ফয়সাল

About Health BD 24

আফসানা শাহিন মুন্নী, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা , সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

শাড়ি পরার সময়

শাড়ি পরার সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত

শাড়ি বাঙালি নারীর ঐতিহ্য। শাড়িতেই যেন বাঙালি নারীর সৌন্দর্য ফুটে উঠে পুরোপুরি। আর শাড়ির সাথে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.