
বেশিরভাগ মেয়েরাই জীবনের কোন না কোন সময় মাসিক সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগে থাকেন। সচেনতা এবং রক্ষণশীলতার কারণে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। যা পরবর্তীতে আরো বেশি জটিলতার সৃষ্টি করে। আপনার ডক্টরর bangla health tips এর পক্ষ থেকে জেনে নেয়া যাক খুব কমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ড সম্পর্কে।
মেনোরেজিয়াঃ
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী মেন্সট্রুয়াল ব্লিডিংকে মেডিকেল টার্মে মেনোরেজিয়া বা দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ড বলা হয়।
আরো বিস্তারিত ভাবে দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ড সম্পর্কেবলতে গেলে মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটলে অথবা মাসিক যদি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দিন চলতে থাকে।
লক্ষণ সমূহ :
* প্রতি ঘন্টায় একটি বা তার বেশি স্যানিটারী প্যাড লাগলে।
* দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ডহলে ডাবল প্যাড ব্যবহার করতে হলে।
* ব্লাড ক্লটের পরিমাণ বেশি দেখা গেলে।
( জমাট বাঁধা / রক্তের চাকা )
* এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রক্তপাত হলে।
* অতিরিক্ত রক্তপাত যা আপনার প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ কর্মকে বাঁধাগ্রস্থ করে।
* অতিরিক্ত ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা এমন কী শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত শুরু হতে পারে। এই লক্ষণগুলো সাধারণত রক্তশূণ্যতার জন্য হয়।
কারণঃ
বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ড হতে পারে। উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ সম্পর্কে স্বল্প পরিসরে কিছুটা আলোচনা করার চেষ্টা করছি।
#হরমোনাল ইমব্যালেন্সঃ
ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরনের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে।
#এনওভুলেটরী মেন্সট্রুয়াল সাইকেলঃ
যাদের রিসেন্ট মেন্সট্রুয়েশন শুরু হয়েছে কিংবা যারা মেনোপজের কাছাকাছি তাদের এমনটা ঘটে।
#ফাইব্রয়েড ইউটেরাস বা জরায়ুতে টিউমারঃ রিপ্রোডাক্টিভ এইজে এই টিউমার বেশি হয়।
#ইউটেরাইন পলিপঃ এটাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রিপ্রডাক্টিভ এইজে হয়।
#এডেনোমায়োসিস
#মিসক্যারেজ বা একটোপিক প্রেগনেন্সী
#ক্যান্সারঃ জরায়ুর ক্যান্সার, জরায়ু মুখ ক্যান্সার এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারের লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
#ব্লিডিং ডিসঅর্ডারঃ
কারো কারো ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধা জনিত সমস্যার কারণে বেশি রক্তপাত হয়।
# ঔষধঃ যেমন এন্টি কোয়াগুলেন্ট ড্রাগ।
# অন্যান্য আরো কিছু কারণ আছে। যেমনঃ থাইরয়েডের সমস্যা, মেন্টাল স্ট্রেস এছাড়া এন্ডোমেট্রিয়োসিসের কারণেও মেনোরেজিয়া বা দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ড হতে পারে।
চিকিৎসাঃ যেহেতু অনেক কারণে দীর্ঘ মেয়াদী পিরিয়ড হতে পারে, আপনার ক্ষেত্রে কোন কারণ এর জন্য দায়ী তা আইডেন্টিফাই করা প্রয়োজন। আপনার রোগের পূর্ণ ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং কিছু ইনভেস্টিগেশন করার পরই আপনার রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। সুতরাং শারীরিক সমস্যাকে উপেক্ষা না করে এক জন গাইনী ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।আপনার ডক্টরের পক্ষ থেকে শুভ কামনা প্রতিটি নারীর জন্য।
লিখেছেনঃ ডাঃ মোশাররাত জাহান কণা, সূত্র: সাজগোজ
১। বেশী হস্তমৈথুন করলে কি শরীরের কিডনীর সমস্যা হবে নাকি?
আপনি এই পোষ্টটি পড়লে বিস্তারিত জানতে পারবেন https://healthbd24.net/archives/1502 । ধন্যবাদ