রক্তস্বল্পতা দূর করে যেসব খাবার

রক্তশূন্যতা বা রক্তাল্পতা বা রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) (Anemia) হল রক্তে রক্তকণিকা স্বল্পতা অথবা রক্তের পরিমাণ বা অক্সিজেনবাহী রক্তরঙ্গক হিমোগ্লোবিনের অভাব।রক্তশূন্যতা অন্য রোগের সঙ্গে একটি উপসর্গ হতে পারে (যেমন ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী বৃক্কীয় কার্যহীনতা), বা কখনো নিজেই একটি রোগ হতে পারে (যেমন অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া অর্থাৎ সমস্ত রক্তকণিকা তৈরি হবার অভাব) বা যার কারণে অন্য রোগ হতে পারে (যেমন হার্ট ফেইলিওর)।

রক্তস্বল্পতা

রক্তস্বল্পতা

আজকাল অনেকেই রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভোগেন। এটি খুব সাধারণ একটি রোগ। মহিলা এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিলেও এটি সব বয়সী মানুষেরই হতে পারে। রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা কমে যাওয়াকে রক্তস্বল্পতা বলা হয়। হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণীকার ভেতরে একটি প্রোটিন যা দেহে অক্সিজেন প্রবাহিত করে থাকে।

কারণ ও লক্ষণ সমূহ:

.আয়রনের অভাব

.ভিটামিন বি১২ এর অভাব

.ফলিক অ্যাসিডের অভাব

.অতিরিক্ত রক্তপাত

.পাকস্থলিতে ইনফেকশন

.বয়স

.ধূমপান

.উচ্চ বিএমআই

.বিভিন্ন অসুখ ইত্যাদি।

আয়রন ঘাটতি অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত মানব রক্ত

আয়রন ঘাটতি অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত মানব রক্ত

লক্ষণ: রক্তশূন্যতার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন রকম হয়। অবসন্নতা, ক্লান্তিভাব, বমি, ঘাম হওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ছোট শ্বাস, বেশি ঠাণ্ডা অনুভব করা ইত্যাদি রক্তশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।

কিছু খাবার আছে যা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে রক্ত স্বল্পতা দূর করা সম্ভব হবে। রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করবে এমন কয়েকটি খাবার হল-

পেনিস সহজে বড়, মজবুত ও মোটা করার উপায় কি? জেনে নিন

১। পালং শাক

পালং শাককে সুপার ফুড বলা হয়। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, বি৯, ই, সি, বিটা ক্যারোটিন এবং আয়রন রয়েছে। যা রক্ত তৈরি করে থাকে। আধা কাপ পালং শাক সিদ্ধতে ৩.২ মিলিগ্রাম আয়রন আছে যা মহিলাদের দেহে ২০% আয়রন পূরণ করে থাকে।

২। বিট

বিট আয়রন সমৃদ্ধ খাবার হওয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি রক্তস্বল্পতা দূর করে দেয়। এটি লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি করে। এবং দেহে অক্সিজেন সরবারহ সচল রাখে।

৩। টমেটো

টমেটোতে ভিটামিন সি আছে যা অন্য খাবার থেকে আয়রন শুষে নেয়। এছাড়া টমেটোতে বিটা ক্যারটিন, ফাইবার, এবং ভিটামিন ই আছে। বিষেষজ্ঞ স্বাস্থ্যবীদরা প্রতিদিন কমপক্ষে একটি টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

৪। ডালিম

এতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন এবং ভিটামিন সি রয়েছে। এটি দেহে রক্ত প্রবাহ সচল রেখে দুর্বলতা, ক্লান্ত ভাব দূর করে। নিয়মিত ডালিম খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়ে যায়। প্রতিদিনের নাস্তায় এক গ্লাস ডালিমের রস খাওয়া খুবই উপকার।

৫। পিনাট বাটার

আয়রনের আরেকটি উৎস হল পিনাট বাটার। দুই টেবিল চামচ পিনাট বাটারে .৬ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায়। আপানি যদি পিনাট বাটারের স্বাদ পছন্দ না করেন চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটিও শরীরে আয়রন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যার ফলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়।

এছাড়া ডিম, সয়াবিন, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, খেজুর, কিশমিশ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে যা দেহের রক্ত স্বল্পতা রোধ করে।

রক্তশূন্যতার প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গ

রক্তশূন্যতার প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গ

রক্তস্বল্পতা বিষয়ে কিছু কমন প্রশ্নঃ
যাদের এনিমিয়া আছে, তাদেরই কি মাইগ্রেনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে?

উত্তরঃ না।

যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্র কম থাকে তারা কি রেগুলার রক্ত দিতে পারে?

(উত্তর ১) : রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিন এর মাত্র কম থাকা মানেই রক্তের কার্যকারিতা কমে যাওয়া.তাই এই ক্ষেত্রে রক্ত দেওয়ার কম মানেই হয়না..কারণ ওই সময় কেউ কে রক্ত দিলে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত কারণ অন্য ব্যক্তি ও ভুগতে পারে.তাই নিয়মিত নয় এমতাবস্তায় রক্ত দেওয়াটা উচিত নয়।
(উত্তর ২) : না। তাদের ক্ষেত্রে তিন মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করাটা ঝুঁকিপূর্ণ; এক্ষেত্রে শারীরিক অবসন্যতাসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে চাইলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরীক্ষা করে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে রক্তদান করতে পারেন, তবে অবশ্যই নিয়।
(উত্তর ৩) : রক্তে হিমগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে। রক্তের কারযকরি ক্ষমতা কমে যায়। আর তখন যদি কেউ রক্ত দেয়। তাতে রক্ত দাতা এবং গ্রহিতা দু জানেরিই ক্ষতি। তাই এমত অবস্থায় রক্ত না দেয়াই উত্তম।
(উত্তর ৪) : রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে রেগুলার কেন। রক্ত দেয়ায় উচিত না! খুব জরুরি প্রয়োজন না হলে! এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত!
(উত্তর ৫) : একেবারে রক্ত দেয়াই উচিৎ না বরং নিজের রক্তের হিমোহ্লোবিন বাড়ানো দরকার ।

About Health BD 24

আফসানা শাহিন মুন্নী, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা , সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

chikungunia

চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ভিডিওসহ

চিকুনগুনিয়া হচ্ছে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ।এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশের দুই থেকে চার …

One comment

  1. ধন্নবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.