কোন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে মুখমণ্ডল পরিষ্কার ও সতেজ থাকবে?

মুখমণ্ডল পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে ব্যবহার করতে পারেন এই উপাদান গুলোঃ জাফরান, দুধ, বেসন, চালের গুঁড়া, টমেটোর রস, নিম, মধু, হলুদ, চন্দন গুঁড়া, টক দই ইত্যাদি। দুধের সঙ্গে জাফরন মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিয়মিত মুখে ব্যবহার করলে মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। নিমপাতা সেদ্ধ করা পানি মুখে ব্যবহার করলে মুখমণ্ডলে জীবাণুর সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবেন, এর ফলে মুখের ত্বক ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত হয়ে সব সময় সতেজ থাকবে। মধু ব্যবহারের ফলে ত্বকের দাগ দূর হয়ে মুখমণ্ডল হয়ে উঠবে উজ্জ্বল।

উপাদান

মুখমণ্ডল পরিষ্কার ও সতেজ রাখার প্রাকৃতিক উপাদান

বেসন ও টক দইয়ের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিয়মিত মুখের ত্বকে লাগালে ভালো ফলাফল পাবেন। চালের গুঁড়া এবং কাঁচা দুধের সঙ্গে টমেটোর রস ও হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের বলিরেখা দূর হয়ে মুখমণ্ডল হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। কাঁচা দুধের সঙ্গে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে মুখমণ্ডলে ব্যবহার করুন, এটি আপনার ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তুলবে।

ত্বকের যত্নে যে উপাদানগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে আদিকাল থেকেই

ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করার জন্য আমরা কত রকমারি পণ্য ব্যবহার করে থাকি। শুধু কি ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে? মুখের দাগ, বলিরেখা, রোদে পড়া দাগ সব সামলাতেই আমরা নানা রকম পণ্য ব্যবহার করি।

কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো আমাদের নানী দাদীরা কি এত বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতেন? করতেন না তো, তাহলে আমরা কেন এত বিউটি প্রোডাক্টের ওপর নির্ভরশীল? নানি দাদিরা বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার না করলেও তারা প্রাকৃতিক কিছু উপাদান দিয়ে নিয়মিত রূপচর্চা করতেন। কোন কোন উপাদান ব্যবহার করতেন আমাদের নানি দাদিরা? আসুন জেনে নিই তেমন কয়েকটা উপকরণের নাম।

১। জাফরান

মোঘল আমল থেকে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে জাফরান। কিছুটা দামী হলেও ত্বকের জন্য এটি অমূল্য। দুধের সর বা দুধের সাথে জাফরন মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। প্রতিদিন সকালে রোদে পড়া দাগের ওপর এটি লাগান। এটি রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। গোলাপ জলের সাথে কিছু জাফরান মিশিয়ে নিন। এরপর তুলার বলে সেটি লাগিয়ে মুখে লাগান। প্রতিদিন ব্যবহারে এটি আপনার ত্বকের রং উজ্জ্বল করবে।

২। নিম

নিম রূপচর্চা আদি উপাদান গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য এবং অনেক বেশি কার্যকরী। কয়েকটি নিম পাতা সিদ্ধ করে নিন। এরপর তুলোর বল ভিজিয়ে সারা মুখে কিছুক্ষণ ঘষুন। এটি আপনার মুখের ব্রণ হওয়া প্রবণতা কমিয়ে দিবে। এছাড়া এটি ত্বক জীবাণু মুক্ত করে থাকে।

৩। মধু

সব ধরণের ত্বকের সাথে মিশে যায় মধু। ফলে যেকোন ত্বকের অধিকারীরা এটি ব্যবহার করতে পারে। মধু রোদে পোড়া দাগের ওপর ঘষুন। প্রতিদিন ব্যবহারে এটি আপনার রোদে পোড়া দাগকে একদম দূর করে দিবে। বেসন, দুধের মালাই বা চন্দনের সাথে মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এটি ত্বকের যেকোন দাগ দূর করে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল কোমল।

৪। হলুদ

নানি দাদিদের আমল থেকে যে উপাদানটি রূপচর্চায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে আসছে তা হল হলুদ। বেসন, টক দইয়ের সাথে হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর এটি শরীরের ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্কের ওপর লাগান। নিয়মিত করলে এই দাগ দূর হয়ে যাবে। এছাড়া চালের গুঁড়া, কাঁচা দুধ, টমেটোর রস, হলুদ মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে থাকে।

৫। চন্দন গুঁড়া

কাঁচা দুধের সাথে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন একটি প্যাক। এটি সারা মুখে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করবে।

About Health BD 24

আফসানা শাহিন মুন্নী, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা , সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

চোখের পাপড়ি

চোখের পাপড়ি ঘন ও লম্বা করার অব্যর্থ দুই উপায়

চোখের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় ঘন ও লম্বা পাপড়ি। যদিও সবার লম্বা ঘন চোখের পাপড়ি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.