একটি শিশুর আগমনের খুশির সাথে যেন আর কোনো খুশিরই তুলনা হতে পারে না! ছোট্ট নতুন মানুষটাকে ঘিরে মা-বাবার থাকে একরাশ ভালোবাসা, অফুরান মমতা আর অনেকখানি প্রস্তুতি।আদরের সোনামনিকে কোলে পাওয়ার পর উৎসাহ যতখানি থাকে উদবিগ্নতা থাকে তার চেয়েও বেশি। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।চারপাশের মানুষের কাছ থেকে আসতে থাকে নবজাতকের যত্ন বিসয়ক নানা ধরণের পরামর্শ এবং উপদেশ। ফলে কোনটা বাবুর জন্য ভালো হবে আর কোনটা নয় তা নিয়ে নতুন মা-বাবা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। আর ব্যাপারটা আরো কঠিন হয়ে পড়ে বাবুর প্রথম শীতের সময়। কিভাবে এই সময় নবজাতকের যত্ন নিবেন অনেকেই তা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। আমরা আপনাকে দিচ্ছি কিছু এক্সপার্ট পরামর্শ যা আপনার বাবুকে এই ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং আপনাদের দুজনকেই রাখবে নিশ্চিন্ত।

শীতে নবজাতকের যত্ন
নবজাতকের যত্ন ১ঃ বুকের দুধ খাওয়ানো
আপনার শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। যেসব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না তাদের আলাদা বাটি বা পাত্রে আলাদা খাবার দেয়া হয়ে থাকে।এতে করে জীবাণুর সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে এই ব্যাপারে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যায়।
নবজাতকের যত্ন ২ঃ টিকা দেয়া
টিকা দেবার সময়গুলো সঠিকভাবে মেনে চলার চেষ্টা করুন। এই ব্যাপারটি শিশুর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অনেক বড় ভূমিকা রাখে এবং বেশ কিছু মারাত্মক অসুখের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। যদি কোনোকারণে কোন একটি ডোজ মিস হয়ে থাকে, তবে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব দেয়ার ব্যাবস্থা করুন।
নবজাতকের যত্ন ৩ঃ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
শীতকাল সাথে করে নিয়ে আসে ফ্লু এবং ঠাণ্ডা লাগার বাড়তি ঝুঁকি। শিশুকে খাওয়ানোর আগে, কোলে নেয়ার আগে এমনকি আদর করার পূর্বে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাবহার করুন। যেন আপনার মাধ্যমে শিশু কোনো জীবাণুর সংস্পর্শে না আসে। শিশুর বিছানার চাদর এবং কাঁথা প্রতিদিন বদলাবার কথা মনে রাখবেন, এতে বাবুও থাকবে স্বস্তিতে।
নবজাতকের যত্ন ৪ঃ উষ্ণতা
আরামদায়ক গরম একটি পরিবেশ আপনার শিশুকে হাসিখুশি এবং আরামে রাখবে। আপনার শিশু উষ্ণতা অনুভব করবে এরকম একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যেসব দরজা-জানালা দিয়ে বাবুর ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকতে পারে সেগুলো সব বন্ধ রাখুন, কিন্তু আলো-বাতাস চলাচলের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখুন। একইসাথে শুষ্কতা এবং ত্বক ফেটে যাওয়া এড়াতে সঠিক পরিমাণের আর্দ্রতা বজায় রাখুন।
নবজাতকের যত্ন ৫ঃ পোশাক
আপনার শিশুর গায়ের পোশাকটি তার অনুভূতি এবং ব্যবহারের উপর প্রভাব ফেলে। আরামদায়ক গরম পোশাক আপনার বাবুকে ভালোভাবে ঘুমাতে সাহায্য করবে এবং এতে সে আরো আরাম অনুভব করবে। আবার মনে রাখবেন যে আপনি বাসার তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাই ভারী এবং আঁটসাঁট কাপড় ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। শীতের পোশাক বাছাই করার সময় খেয়াল রাখবেন তা যেন আরামদায়ক এবং নরম কাপড়ের হয়।
নবজাতকের যত্ন ৬ঃ ম্যাসাজিং
আপনার বাবুকে প্রতিদিন একটি আরামদায়ক উষ্ণ ওয়েল ম্যাসাজ দিলে এটি তার শরীরের জন্য ভাল হবে। তেল এবং ময়েশ্চারাইজার শিশুকে রাখবে নরম এবং প্রাণবন্ত। যদিও শিশুদের যত্নের জন্য অনেক পণ্যই বাজারে রয়েছে তবে বাছাই করার ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের পরামর্শমত একটি বা দু’টি বেছে নিন।
আর এভাবেই এই ছোট্ট টিপসগুলো মনে রেখে আপনার শিশুর সাথে প্রথম শীতকালটি উপভোগ করুন নিশ্চিন্তে ।