যোগ ব্যায়াম যে ভাবে আপনাকে সুস্থ রাখবে

সুস্থ থাকতে আমরা প্রতিদিন কত কিছুই না করি। শরীরের সুস্থতা আমাদের সকলের কাম্য। কারণ আমরা প্রত্যেকেই জানি শরীর ভালো তো সব ভালো। কথাটি আসলেই অনেক বেশি সত্য। দেহ ভালো না থাকলে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য আমরা দেহের জন্য উপকারী খাবার খাই এবং শারীরিক ব্যায়াম করে থাকি।কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যোগ ব্যায়াম করা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করে যোগ ব্যায়াম করে আমরা দেহকে রাখতে পারি কোন মারাত্মক রোগ বাচাতে।

যোগ ব্যয়াম.PNG

যোগ ব্যায়াম যে ভাবে আপনাকে সুস্থ রাখবে

ব্যায়াম সম্পর্কে ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি :

১ঃ স্থুল দেহ, অতিরিক্ত মোটা ,উচ্চতার তুলনায় যাদের অতিরিক্ত ওজন এবং ফিগার সচেতন ব্যক্তিদের জন্যেই ব্যায়াম। যারা হালকা-পাতলা, লিকলিকে, শারীরিক ওজন কম তাদের জন্যে প্রয়োজন নেই ব্যায়ামের।

২ঃ সারাদিন অনেক কাজ করতে হয়। মহিলারা ভাবেন রান্না-বান্না, ঘর- দোর সামলানো, বাচ্চাদের দেখাশোনা- সবকিছু ব্যালেন্স করতে যেয়ে শারীরিকভাবে অনেক কষ্ট করতে হয়। এতো পরিশ্রমের পরও ব্যায়াম কেন করতে হবে। পুরুষেরা ভাবেন, সংসারের বাজার করা, অফিসে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়, ফলে শরীরের ওপর অনেক ধকল যায়- ব্যায়াম কেন করতে হবে।কিন্তু এটি ভুল ধারোনা।এমন অনেক রোগ আছে যা কোনো ওষুধে ভালো হবে না কিন্তু যোগ ব্যায়ামে ভালো হবে।যোগ ব্যায়াম করে অনেকেই ব্যাকপেইন, স্পন্ডিলাইটিস, পিরিয়ডের সমস্যাসহ বহু মনোদৈহিক রোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন।

আবার নিয়মিত যোগ ব্যায়ামে আপনার ঘুমের সমস্যা, হাপানি, দরোগ,আর্থারাইটিস, ফ্রোজেন শোল্ডার, সায়াটিকা, ডায়াবেটিস, মেরুদন্ডের সমস্যা, স্থূলতা, হাটু ব্যাথাসহ উপরোক্ত রোগগুলো কখনোই হবে না।

যোগ ব্যায়ামের আরো উপকারিতা:

বজ্রাসন : হজম করতে সহায়তা করে, চুল পাকে না, চুল পড়ে না।

ভুজঙ্গাসন : মেরুদন্ডের সমস্যা বা স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যা দূর করে ও উচ্চরক্তচাপ নিয় করে

উষ্ট্রাসন : কনস্টিপেশন দূর করে।

গো-মুখাসন : ঘুম আনতে সহায়তা করে।

ভদ্রাসন : পিরিয়ডের সমস্যা দূর করে।

দৃষ্টিদান : চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

জানুশিরাসন : প্যানক্রিয়াসে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এ কারণে ডায়বেটিস হতে পারে না।

যারা নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করেন তারা আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে পারেন, কাজ করতে পারেন, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যোগ ব্যায়াম হার্ডডিজিজ নিয়েও করা যায়।

অন্যান্য ব্যায়ামের সাথে যোগ ব্যায়ামের পার্থক্য :

প্রচলিত যে ব্যায়ামগুলো- অ্যারোবিক্স, ইন্সট্রুমেন্টাল, জিমনেসিয়াম হয়তো খুব দ্রুত আপনাকে কৃশকায় করে ফেলছে অথবা আপনাকে বডি বিল্ডার হিসেবে গড়ে তুলছে। কিন্তু যোগ ব্যায়াম শরীরের ওজন স্ট্যান্ডার্ড করে। আমার জন্যে যে ওজন থাকা প্রয়োজন সেই ওজন নিয়ে আসে।

অন্যান্য ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয়।কারণ এর ফলে শারীরিক ক্ষয় হয়।এই ব্যায়ামে শরীরের কোন ক্ষয় হয় না। এ জন্যে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হয় না।

প্রচলিত এই ব্যায়ামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যোগ ব্যায়ামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটাই হতে পারে যে আপনি সুস্থ থাকবেন।

প্রচলিত ব্যায়ামগুলো করা মানে আপনি বাঘের পিঠে বসে আছেন। পড়লেই যেমন বাঘ খপ করে আপনাকে খেয়ে ফেলবে তেমনি ব্যায়াম ছেড়ে দিলেই আপনি মোটা হয়ো যাবেন। কিন্তু কোনো কারণে আপনি যদি যোগ ব্যায়াম নাও করতে পারেন তাও আপনি সহজে মোটা হয়ে যাবেন না।

About Health BD 24

আফসানা শাহিন মুন্নী, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা , সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে লেখালেখি করি।

Check Also

কিভাবে চিকন হওয়া যায় এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের ইনবক্সে আসে। মূলত এই পোস্টে ডায়েটিং কিভাবে করা হয় এবং নিজেকে কিভাবে অতি দ্রুত চিকন করা যায় সেই বিষয়ে লেখা হয়েছে এবং সহজে প্রাকৃতিক উপায়ে slim বা চিকন হওয়ার টিপস গুলো সহজ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

কিভাবে চিকন হওয়া যায়

কিভাবে চিকন হওয়া যায় এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের ইনবক্সে আসে। মূলত এই পোস্টে ডায়েটিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.